দেশে বৈদেশিক মুদ্রার বাজার স্থিতিশীল রাখতে ব্যাংক খাত থেকে ডলার কেনা অব্যাহত রেখেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। গতকালও আটটি ব্যাংক থেকে ১০ কোটি ৪০ লাখ ডলার কেনা হয়েছে। এ নিয়ে চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ১৯৮ কোটি ডলার কেনা হলো। এতে ডলারের দরপতন ঠেকানোর পাশাপাশি দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভও বাড়ছে।
তিন অর্থবছর ধরে বৈদেশিক মুদ্রার বাজার স্থিতিশীল রাখতে রিজার্ভ থেকে ডলার বিক্রি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কিন্তু চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বিক্রি না করে উল্টো বাজার থেকে ডলার কেনা শুরু করে। মূলত চাহিদার তুলনায় সরবরাহ বেশি হওয়ার কারণেই এমন সিদ্ধান্ত নেয়া হয় বলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান জানিয়েছেন।
বণিক বার্তাকে তিনি বলেন, ‘বাজারে ডলার সরবরাহের তুলনায় চাহিদা কম। এ কারণেই বাংলাদেশ ব্যাংক জুলাই থেকে ডলার কেনা শুরু করে। এখন পর্যন্ত প্রায় ১৯৮ কোটি ডলার কেনা হয়েছে। বাজার স্থিতিশীল রাখার স্বার্থে ভবিষ্যতেও এটা অব্যাহত থাকবে।’
বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, গতকাল নিলামের মাধ্যমে আটটি ব্যাংক থেকে ১০ কোটি ৪০ লাখ ডলার কেনা হয়েছে। এতে প্রতি ডলারের গড় বিনিময় হার ছিল ১২১ টাকা ৮০ পয়সা।
এদিকে ডলার ক্রয় ও সরবরাহ বাড়ায় রিজার্ভও বাড়ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গতকাল দেশের গ্রস বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ছিল ৩১ দশমিক ৬৮ বিলিয়ন ডলার। তবে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) হিসাব পদ্ধতি (বিপিএম-৬) অনুযায়ী, এর পরিমাণ ২৬ দশমিক ৮০ বিলিয়ন ডলার।
বাংলাদেশ ব্যাংক কর্মকর্তাদের মতে, কেন্দ্রীয় ব্যাংক ডলারের দর অস্থিতিশীল হতে দেবে না। দাম অনেক বেড়ে যাওয়া যেমন ভালো নয়, আবার দাম কমে যাওয়াও অর্থনীতির জন্য নেতিবাচক। এ প্রসঙ্গে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বণিক বার্তাকে বলেন, ‘সহসা ডলারের বড় কোনো চাহিদা তৈরি হবে না। বাড়তি ডলার বাজার থেকে কিনে নেয়ায় নতুন অর্থবছরে রিজার্ভ অনেক সমৃদ্ধ হবে।’